ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে: পেজেশকিয়ান
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 19 Apr, 2026
ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো অধিকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতভেদের মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ানকে উদ্ধৃত করে ইরানি স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ) জানায়, ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না।’’ কিন্তু তিনি এটি বলছেন না যে, কোন অপরাধে এ বাধা দেওয়া হচ্ছে? একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার তিনি কে?’
পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানি প্রেসিডেন্ট এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন।
এদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘নতুন ও তিক্ত পরাজয়’ উপহার দিতে তাঁর দেশের নৌবাহিনী প্রস্তুত। আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর এ বার্তা প্রচার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই হুঁশিয়ারি দিলেন খামেনি। ইতিমধ্যে, ওই প্রণালিতে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে।
আলোচনার তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা না হলেও ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। খবর আল–জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর আগে জাহাজ চলাচলের জন্য যে বিশেষ পথ বা করিডোর খোলা রাখা হয়েছিল, সেটিও এখন থেকে বন্ধ থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ফি দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে সুযোগ ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী শাখা সতর্ক করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরানের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
তেল আবিবে নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার রাতে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাফায়েল পিনাইনা বলেন, নেতানিয়াহু ভেতর থেকে আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নষ্ট করছেন। তাই তিনি এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
পিনাইনা আরও বলেন, ‘এখানকার মানুষ বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের কাছে গত ৭ অক্টোবর ও এর পরবর্তী ঘটনাগুলোর তদন্ত দাবি করছে। কারণ, আমাদের সবারই সত্য জানার অধিকার আছে।’
লি হফম্যান-আজিভ নামের এক সমাজকর্মী বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি মূলত ৭ অক্টোবর এবং এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা অন্তহীন যুদ্ধে যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে।’
হাইম ট্রিভ্যাক্স নামের আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল ভুল করেছে। নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থে নয়, বরং জেল থেকে বাঁচতেই এসব করছেন।
লেবাননে দুই দিনে ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ১২
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গত দুদিনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে চলমান অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ১৫ সদস্য নিহত হলেন।
আইডিএফের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, গতকাল শনিবার ৩১ বছর বয়সী সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস (রিজার্ভ) লিডর পোরাত নিহত হন। এর আগের দিন শুক্রবার মারা যান সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) বারাক কালফন। এ দুটি ঘটনায় আরও ১২ সেনা আহত হয়েছেন বলে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে। তবে ঘটনাগুলোর বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, লেবাননে গতকাল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (ইউনিফিল) একজন ফরাসি সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের খবর সামনে এল।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

